বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

একই পরিবারের ৪ জনের মর্মান্তিক মত্যুতে এলাকায় শোক

আব্দুল্লাহ আল মামুন / ৩৭৮ জন পড়েছে:
প্রকাশ: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৩:২৬ অপরাহ্ন

27 Views

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে ঘরের দেয়াল নরম হওয়ায় নতুন ঘর তৈরীর পরিকল্পনা করে ঘর তৈরীর উপকরণ নতুন টিন আর বাঁশ বাড়িতে আনা হলেও সেই ঘরে থাকা হলো না স্বপনের পরিবারের। বৃষ্টির পানিতে ভেঙ্গে পড়লো ঘরের দেয়াল। আর সেই দেয়ালই কেড়ে নিলো স্বপনসহ তার স্ত্রী ও তার দুই সন্তানের। এমনই হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের ঝাউপাড়া গ্রামে।

শয়ন ঘরের মাটির দেয়াল ধ্বসের ঘটনায় স্বামী, স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তানসহ একই পরিবারের ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। দেয়াল চাঁপা পড়ে খাটের মধ্যেই ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যান বাড়ির মালিক স্বপন আলী (৩৮), স্ত্রী সারজেনা তাদের দুই ছেলে হোসাইন (৮) ও হাসিবুর রহমান (৬) মারা যান।

আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয়দের সহযোগীতায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ ।

এ ঘটনার পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে দিনাজপুর জেলাসহ আসপাশের বিভিন্ন উপজেলায়। বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্যান, রিক্সা যোগে এবং পায়ে হেঁটে এক নজর দেখতে ছুটে এসেন অনেকে। একই পরিবারের ৪ জনের লাশ একসাথে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে অনেকে। অনেকে বলছেন, তার পরিবারের আর কেউ থাকলো। একসাথে পরিবারের সকলের মৃত্যু পার্বতীপুরের একটি বিরল ঘটনা।

জানা যায়, পিতা আবু সাঈদের দুই মেয়ে সারজেনা ও শাহিদা বেগম। সারজেনার মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় দুই মেয়েকে বিয়ে দেয়া পর নতুন বিয়ে করে ফুলবাড়ির আবাসন ঘর সংসার শুরু করেন তাদের বাবা। ২০০২ সালের পার্বতীপুরের পাশের উপজেলা সৈয়দপুর মদিরামপুর দোলাপাড়া গ্রামের আজাদ আলীর ছেলে স্বপন আলীর সাথে বিয়ে হয় পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ঝাউপাড়া শালবাড়ি গ্রামের আবু সাঈদের মেয়ে সারজেনার। বিয়ের পর থেকে শ^শুর বাড়িতেই থাকতেন ফেরী করে জীবন যাপন শুরু করেন স্বপন আলী। স্ত্রী সন্তান নিয়ে এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিলো তার। শনিবার রাতের ঘটনায় একই সাথে নিভে যায় স্বপনের পরিবারের সকলের জীবন বাতি। ঘুমের মধ্যেই না ফেরার দেশে চলে যান তারা। এঘটনায় এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। শনিবার গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘটে এ দূর্ঘটনা। ঘটনার পর পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ মিথুন মুন্নী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ মিথুন মুন্নী জানান, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল গিয়েছি। নিহতের পরিবারকে উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেবের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকাসহ মোট ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি তদন্ত সোহেল রানা ঘটনার বিষয়ে বলেন, স্থানীয়দের সহযোগীতায় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করেছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ........
এক ক্লিকে বিভাগের খবর