Agaminews
Dr. Neem Hakim
Dr. Neem Hakim

তরুণ উদ্ভাবক জুলফিকার প্লাষ্টিক পুড়িয়ে উৎপাদন করলেন জ্বালানী তেল


Bangla 24 প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১০, ২০২১, ৮:০৭ অপরাহ্ন / ৯৯৭০
তরুণ উদ্ভাবক জুলফিকার প্লাষ্টিক পুড়িয়ে উৎপাদন করলেন জ্বালানী তেল
271 Views

পার্বতীপুর প্রতিনিধি ::::  দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পাইরোলাইসিস প্রক্রিয়ায় জ্বালানী তেল উৎপাদনের বিজ্ঞান সম্মত ব্যতিক্রমি উদাহরন সৃষ্টি করেছে জুলফিকার ইসলাম প্রামানিক নামে এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ প্রেমী উদ্ভাবকের জ্বালানী উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশকে দূষনমুক্ত করার প্রচেষ্টায় তার এই উদ্ভাবন। এ প্রক্রিয়া এক নজর দেখতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন তার বাড়িতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পার্বতীপুর পৌর শহরের রহমত নগর মহল্লার আবুল কালাম আজাদের একমাত্র ছেলে জুলফিকার ইসলাম প্রামানিক। রংপুরের একটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে সিভিল ইঞ্জিনিয়রিং বিভাগের ৫ পর্বের শিক্ষার্থী জুলফিকার। রসায়ন নিয়ে ছোট বেলা থেকেই নতুন কিছু করার আগ্রহ আজ সাফল্যে দ্বার প্রান্তে পৌছে দিয়েছে তাকে।

দীর্ঘদিন গবেষনার পর শুরু করেন প্লাস্টিক পুড়িয়ে জ্বালানী তেল তৈরীর কাজ। যেমন ভাবনা তেমনই কাজ। প্রজেক্টটি সফল করতে শুরু করেন রাতের পর রাত জেগে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা। অবশেষে সোনার হরিণ নামক সাফল্যের চাবিটি ধরা দিয়েছে তার হাতে। অবিশ্বাস্য হলেও তরুণ এই উদ্ভাবক বিজ্ঞানের আধুনিকায়নকে কাজে লাগিয়ে পরিত্যাক্ত পলিথিন ও প্লাষ্টিক পুড়িয়ে তরল সোনা নামে খ্যাত পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ও মিথেন গ্যাস উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিদিন এ পদ্ধতিতে অর্ধশত লিটারের অধিক জ্বালানী তেল উৎপাদন করছেন তিনি। এ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত ভারী তেল বা ক্রুড ওয়েলের জ্বালানী সক্ষমতা বাজারের জ্বালানী তেলের থেকেও ২০ থেকে ৩০ভাগ বেশি বলে দাবি তার।

প্রাথমিকভাবে ক্ষুদ্র পরিসরে টিনের ড্রাম, প্লাষ্টিক পাইপ, গ্যালনকে উপকরন হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন জুলফিকার। তবে, প্রথম অবস্থায় ১ কেজি পলিথিন হতে ৬০ থেকে ৮০ ভাগ জ্বালানী তেল ও গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে। প্লান্ট ছাড়া স্থানীয়ভাবে এ প্রক্রিয়ায় জ্বালানী উৎপাদন ব্যায়বহুল হলেও প্লান্টের মাধ্যমে উৎপাদনের ক্ষেত্রে তা বেশ লাভজনক। তবে প্লান্ট তৈরী করে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা। এই উদ্ভাবক আরও জানান, অবিনস্বর পরিত্যাক্ত এই পলিথিনের হাত থেকে পরিবেশকে দূষনমুক্ত রাখতে ও জ্বালানী তেল আমদানী নির্ভর কমাতে এ প্রক্রিয়া বিশেষ ভ‚মিকা পালন করবে। এছাড়াও এই পরিবেশ প্রেমী তরুণ উদ্ভাবক কার্বনমুক্ত জ্বালানী উৎপাদনের লক্ষেও নতুন আরও একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করছেন।

এদিকে, জুলফিকার এর উদ্ভাবিত ও উৎপাদিত জ্বালানী তেল উৎপাদন প্রক্রিয়া সরেজমিনে পরিদর্শণ করেছেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিদ কায়সার রিয়াদ। তিনি জানান, তার এ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত জ্বালানী সক্ষমতা বাজারের তুলনায় বেশি হলে তা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। সেই সাথে তাকে সার্বিক সহযোগীতা প্রদানের আশ্বাসও দিয়েছেন ইউএনও।